রাজশাহী বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজশাহী বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এস.এইচ.এম তরিকুল ইসলাম, রাজশাহী :: রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাজারদিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আবারো এক বাংলাদেশী কিশোর ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তার নাম সুজন (১৬)। সে ঐ এলাকার শুকুর আলীর পুত্র। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, সুজনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী রোববার গভীর রাতে চর মাজারদিয়া সীমান্ত দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় সীমান্তের ওপারে ভারতের হারুডাঙ্গা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ করে গুলি ছুড়লে সুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের বাড়ি সীমান্ত থেকে মাত্র ৫’শ গজ দূরে বলে জানাগেছে। আইনি জটিলতা এড়াতে এসময় সুজনের পরিবার তরিঘরি লাশ দাফন করেন। কিন্তু স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) খবর দেন।
এ ব্যাপারে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, প্রথমে নিহতের স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে দাফন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সুজনের বাবা শুকুর আলী তাকে জানান যে, বিজিবি’র অনুমতি সাপেক্ষেই সন্তানের লাশ দাফন করেছেন।
এদিকে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান সোমবার বিকাল সোয়া ৫টায় বলেন, বিজিবি লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করার খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের বাড়ি গিয়ে লাশটি কবর থেকে তোলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তিনি বলেন, লাশ তোলা হলে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি রাজশাহী সদর দপ্তরের জি-২ মেজর হান্নান জানান, সীমান্তে কিশোর হত্যার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, সুজনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী রোববার গভীর রাতে চর মাজারদিয়া সীমান্ত দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় সীমান্তের ওপারে ভারতের হারুডাঙ্গা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ করে গুলি ছুড়লে সুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তারা লাশ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। নিহতের বাড়ি সীমান্ত থেকে মাত্র ৫’শ গজ দূরে বলে জানাগেছে। আইনি জটিলতা এড়াতে এসময় সুজনের পরিবার তরিঘরি লাশ দাফন করেন। কিন্তু স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) খবর দেন।
এ ব্যাপারে হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, প্রথমে নিহতের স্বজনরা লাশ উদ্ধার করে দাফন করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সুজনের বাবা শুকুর আলী তাকে জানান যে, বিজিবি’র অনুমতি সাপেক্ষেই সন্তানের লাশ দাফন করেছেন।
এদিকে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান সোমবার বিকাল সোয়া ৫টায় বলেন, বিজিবি লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করার খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের বাড়ি গিয়ে লাশটি কবর থেকে তোলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তিনি বলেন, লাশ তোলা হলে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি রাজশাহী সদর দপ্তরের জি-২ মেজর হান্নান জানান, সীমান্তে কিশোর হত্যার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেওয়া হবে।
চারঘাট থেকে প্রতিনিধি :: জননী গ্রন্থাগার ও সাংস্কৃতিক সংস্থা রুডো রাজশাহী আয়োজনে ডাব্লিউ বি,বি ট্রাষ্ট ঢাকা, সি আর ইউ এফ রাজশাহী সহযোগীতায় প্রচুর পরিমানে শাকসবজ্বি ফলমুল খান, কোমল পানীয় ফাষ্ট ফুড অধিক র্চবিযুক্ত ও ভাজাপুড়া খাবার এবং তামাক জাত দ্রব্য পরিহার করুন প্রচারের অংশ হিসাবে একটি ক্যাম্পেইন গতকাল সোমবার বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ বাজার মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রচারের অংশ হিসাবে ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন চারঘাট বহুমূখী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান, সভাপতি সাদেক আলী, সহ-সভাপতি গাজীবর রহমান, পাঁচবাড়িয়া দুঃস্থ মহিলা কুটির শিল্প সমিতির সভানেত্রী ও চারঘাট মহিলা ইউপি সদস্য জাহানারা, পথের আলো সমিতির সভানেত্রী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জমেলা বেগম, সুচনা সমিতির সভানেত্রী আলেয়া বেগম সহ মতিউর রহমান, মোক্তার হোসেন, আফরোজা বেগম এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন,’’ পুষ্টিকর জাতীয় খাবার, ভিটামিন জাতীয় খাবার বেশী পরিমানে খান এবং অধিক চর্বি যুক্ত, তামাক জাত দ্রব্য সহ অন্যান্য দ্রব্য গুলোর ক্ষতিকর দিক গুলো উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম পর্যায়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রচার চালানো।
রাজশাহী সংবাদদাতাঃ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাবি প্রশাসনের অভয়বাণী সত্ত্বেও মনের মধ্যে ভয় নিয়েই বৃহস্পতিবার অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বারবারই মনে পড়ছে মাত্র ২ দিন আগে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের ভয়াবহ সংঘর্ষের কথা।
এরপর উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। ভর্তিচ্ছু নবীনদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে ক্যাম্পাস জুড়ে।
এদিকে, ২০১১ সালের তুলনায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় এবং ইউনিট পদ্ধতির পরীক্ষায় মাত্র ৬দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় ভর্তিচ্ছুদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার ও গোলাগুলির ঘটনায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে । ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি: নানা জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা। চলবে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, ভর্তি পরীক্ষা ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। কিন্তু ২০১১ সালে চেয়ে এবার ভর্তিচ্ছুদের সংখ্যা এক লাখের বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষা ২ দিন এগিয়ে এনে নতুন পদ্ধতি চালু করে। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী একই ইউনিটের জোড় এবং বিজোড় রোল আলাদাভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু নতুন এ পদ্ধতি বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন এক আইনজীবী। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২ দিন আগে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ এবং নতুন পদ্ধতি নিয়ে রিটসহ নানা জটিলতা দূর করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হবে এতে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। ভর্তিচ্ছু এবং তাদের অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে উদ্ভুত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উপাচার্য আরও জানান, অন্যান্যা বারের চেয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে এক লাখের বেশি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থায় কিছু ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। পরীক্ষা উপলক্ষে ইতোমধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আবাসিক হলসহ নগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও মেসে উঠেছে। ২০১১ সালের তুলনায় এবার ভতিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি অনুষদভুক্ত ৪৯টি বিভাগের ৩ হাজার ৬শ ১৫ আসনের বিপরীতে চলতি শিক্ষাবর্ষে আবেদন করেছে ২ লাখ ৪২ হাজার ২শ ৬৪ জন। গত ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে প্রতিযোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ১শ ৫৯ জন।
২০১১ সালের চেয়ে এবার প্রতিযোগী সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। এই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও শেষ করতে হবে মাত্র ৬ দিনে। ফলে, সব শিক্ষার্থী একযোগে ক্যাম্পাসে অবস্থান করায় এ বছর পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। এ কারণে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ভরে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আঙিনা। শহীদ মিনার, গোল্ডেন জুবুলি টাওয়ার, সাবাস বাংলাদেশ, প্যারিস রোড, পূর্বপাড়া, গণকবর, পশ্চিমপাড়া, আমতলা, সমকাল চত্বর, বৈশাখী চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, মিডিয়া চত্বর, তুঁতবাগান, চারুকলা বিভাগ, পুরাতন ফোকলোর চত্বরসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় সরব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জিয়াউল হল সরকার, বশির আহমেদ, জাহাঙ্গির, জ্যাম বলেন,“পুরো ক্যাম্পাসটাই উৎসব মুখর। পরীক্ষা দিতে এসে যে আনন্দটা আঁচ করতে পারি নাই, আজ পুরোপুরি তা উপলব্ধি করছি।” ব্যবসায়ীদের আনন্দ : ভর্তিচ্ছুদের নিয়ে এখানকার ব্যবসায়ীদেরও আনন্দের কমতি নেই। কেননা বিপুল সংখ্যক ভর্তিচ্ছুরা পরীক্ষা দিতে আসায় এবং ক্যাম্পাসের হলগুলোতে অবস্থান করায় ব্যবসা ভালোই জমে উঠেছে। বিশেষ করে খাবারের দোকান মালিকরা এই সুযোগটা বেশি করে কাজে লাগিয়েছে। অনেকে খাবারের দাম লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে দিয়ে একতরফাভাবে ব্যবসা করছে।
নবীনদের আগমনে ক্যাম্পাসের সার্বিক চিত্র আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠলেও কিছু ক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষার্থীদের একটু বিপাকেই পড়তে হচ্ছে। থাকা-খাওয়াসহ পড়ালেখাতেই এর প্রভাবটা বেশি পড়ে বলে অনেকের মন্তব্য। শের-ই-বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আলামিন, শিমুল, সাদ্দাম, হিমুসহ অনেকে বলেন, “মাত্র ৪ দিনে সব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার ফলে শিক্ষার্থীরা একযোগে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। আর রাজশাহীতে যাদের কোনো পরিচিত কেউ নেই তাদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে, নিজেদের যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তেমনি চরম কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে এখানে অধ্যায়নরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের।#
এরপর উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। ভর্তিচ্ছু নবীনদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে ক্যাম্পাস জুড়ে।
এদিকে, ২০১১ সালের তুলনায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় এবং ইউনিট পদ্ধতির পরীক্ষায় মাত্র ৬দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় ভর্তিচ্ছুদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গলবার ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার ও গোলাগুলির ঘটনায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। মঙ্গলবারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছে । ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি: নানা জল্পনা-কল্পনা ও অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা। চলবে আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, ভর্তি পরীক্ষা ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। কিন্তু ২০১১ সালে চেয়ে এবার ভর্তিচ্ছুদের সংখ্যা এক লাখের বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি পরীক্ষা ২ দিন এগিয়ে এনে নতুন পদ্ধতি চালু করে। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী একই ইউনিটের জোড় এবং বিজোড় রোল আলাদাভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু নতুন এ পদ্ধতি বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন এক আইনজীবী। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২ দিন আগে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ এবং নতুন পদ্ধতি নিয়ে রিটসহ নানা জটিলতা দূর করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হবে এতে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। ভর্তিচ্ছু এবং তাদের অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে উদ্ভুত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উপাচার্য আরও জানান, অন্যান্যা বারের চেয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে এক লাখের বেশি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থায় কিছু ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি পরীক্ষা বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। পরীক্ষা উপলক্ষে ইতোমধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আবাসিক হলসহ নগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও মেসে উঠেছে। ২০১১ সালের তুলনায় এবার ভতিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি অনুষদভুক্ত ৪৯টি বিভাগের ৩ হাজার ৬শ ১৫ আসনের বিপরীতে চলতি শিক্ষাবর্ষে আবেদন করেছে ২ লাখ ৪২ হাজার ২শ ৬৪ জন। গত ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে প্রতিযোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ১শ ৫৯ জন।
২০১১ সালের চেয়ে এবার প্রতিযোগী সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। এই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাও শেষ করতে হবে মাত্র ৬ দিনে। ফলে, সব শিক্ষার্থী একযোগে ক্যাম্পাসে অবস্থান করায় এ বছর পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। এ কারণে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় ভরে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আঙিনা। শহীদ মিনার, গোল্ডেন জুবুলি টাওয়ার, সাবাস বাংলাদেশ, প্যারিস রোড, পূর্বপাড়া, গণকবর, পশ্চিমপাড়া, আমতলা, সমকাল চত্বর, বৈশাখী চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, মিডিয়া চত্বর, তুঁতবাগান, চারুকলা বিভাগ, পুরাতন ফোকলোর চত্বরসহ ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় সরব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জিয়াউল হল সরকার, বশির আহমেদ, জাহাঙ্গির, জ্যাম বলেন,“পুরো ক্যাম্পাসটাই উৎসব মুখর। পরীক্ষা দিতে এসে যে আনন্দটা আঁচ করতে পারি নাই, আজ পুরোপুরি তা উপলব্ধি করছি।” ব্যবসায়ীদের আনন্দ : ভর্তিচ্ছুদের নিয়ে এখানকার ব্যবসায়ীদেরও আনন্দের কমতি নেই। কেননা বিপুল সংখ্যক ভর্তিচ্ছুরা পরীক্ষা দিতে আসায় এবং ক্যাম্পাসের হলগুলোতে অবস্থান করায় ব্যবসা ভালোই জমে উঠেছে। বিশেষ করে খাবারের দোকান মালিকরা এই সুযোগটা বেশি করে কাজে লাগিয়েছে। অনেকে খাবারের দাম লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে দিয়ে একতরফাভাবে ব্যবসা করছে।
নবীনদের আগমনে ক্যাম্পাসের সার্বিক চিত্র আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে উঠলেও কিছু ক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষার্থীদের একটু বিপাকেই পড়তে হচ্ছে। থাকা-খাওয়াসহ পড়ালেখাতেই এর প্রভাবটা বেশি পড়ে বলে অনেকের মন্তব্য। শের-ই-বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আলামিন, শিমুল, সাদ্দাম, হিমুসহ অনেকে বলেন, “মাত্র ৪ দিনে সব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার ফলে শিক্ষার্থীরা একযোগে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। আর রাজশাহীতে যাদের কোনো পরিচিত কেউ নেই তাদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে, নিজেদের যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তেমনি চরম কষ্টের শিকার হতে হচ্ছে এখানে অধ্যায়নরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের।#
রাজশাহী সংবাদদাতা :: কেন্দ্রীয়
যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আটক বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তি ও
নয়াপল্টনে বিএনপি কর্যালয় ঘেরাও করে রাখার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ
মিছিল ও সমাবেশ করেছে মহানগর ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার
দিকে রাজশাহী কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে মহানগরীর বিভিন্ন প্রধান
প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মহানগরীর মালোপাড়া বিএনপি দলীয় কার্যালয়ের
সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান
মিনু। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটন
প্রমুখ।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা কেন্দ্রীয় যুবদল
সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলীয় নেতাকর্মীরে গ্রেফতার ও নয়াপল্টনের
দলীয় কর্যালয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় তীব্র নিন্দা
জানান।
অবিলম্বে দলীয় কার্যালয় অবমুক্ত ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও বক্তারা বলেন।#
সেলিম ভান্ডারী, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম বাজারে গতকাল বুধবার বিকাল ৪ ঘটিকার সময় দুই গ্র“পের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, সাজাহান আলী নামের এক ভুটভুটি চালক মনিগ্রাম বাজারে তিন
রাস্তার মৌড়ে এসে দাড়ায়। এর পর পাশে দাড়িয়ে থাকা এক রিফুজি (পদ্মা পারি)
ভ্যান চালক সাজাহানকে ওই স্থানে ভুটভুটি রাখতে নিষেধ করে। কারণ জানতে চাইলে
ভ্যান চালক উত্তেজিত হয়ে ভুটভুটটি চালক সাজাহানকে কিল-ঘুষি মেরে ভুটভুটি
আটকে দেয়। এরপর স্থানীয় জনগন মারামারি ঠেকানোর পর ভুটভুটি ছেড়ে দিলে রিফুজি
ভ্যান চালকের পক্ষ থেকে কিছু লোক উত্তেজিত হয়ে উঠে। এরপর শুরু হয় রিফুজি ও
বস্তীর মধ্যে সংঘর্ষ। উক্ত সংঘর্ষে দুই গ্র“পের ১০ জন আহত হয়। পরে বাঘা
থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। আহতরা বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাঘা থানার
এস আই মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে উপস্থিত
হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করি এবং দুই পক্ষকেই এলাকাতে বসে মিমাংসা করার
জন্য পরামর্শ দিয়েছি। যদি এলাকাতে মিমাংশা করতে ব্যার্থ হয় তবে আইন গত
ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত বাঘা থানায় কোন অভিযোগ জমা
পড়েনি।
চারঘাট সংবাদদাতাঃ রাজশাহী কলোনীর র্যাব-৫ এর একটি অপারেশন দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামের আশরাফ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ২০ পুড়িয়া হিরোইন উদ্ধার করে। এ সময় হিরোইন সম্রাট আশরাফ আলীকেও র্যাব-৫ সদস্যরা আটক করে । আটক কৃত আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে গতকাল মঙ্গলবার চারঘাট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।#
মাহ্ফুজুর রহমান তুহিন পুঠিয়া প্রতিনিধিঃ পুঠিয়ায় ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা কমছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। ফলে উপজেলার শস্য উৎপাদন কমছে।
পুঠিয়ার কৃষি সম্প্র্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, বছরের পর বছর চাষাবাদ করার পর ফসলের অবশিষ্ট অংশ পচে এবং সার প্রয়োগের কারণে জমির উপরিভাগে উর্বরা শক্তি জমে থাকে, কিন্তু উপরিভাগের মাটি কেটে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ায় জমিতে বিদ্যমান উর্বর শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে, যা ফিরে পেতে অনেক সময় লাগে। এরপর নিচের অংশে চাষাবাদে প্রচুর পরিমাণে সার প্রয়োগ করেও উর্বর করে তুলতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়।
মাটির উপরিভাগের ৬-৭ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরা শক্তি থাকে, কিন্তু দেড়-দুই ফুট গভীরতা পর্যন্ত ফসলের জমি থেকে মাটি নেয়া হলে জমির উর্বরা শক্তি থাকে না। তাই চাষাবাদে আশানুরূপ ফলন হয় না। ফসল বিবর্ণ হয়ে যায়। এ ক্ষতি কয়েক বছরে পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই।
পুঠিয়ার এক ইটভাটার মালিক বলেন, আমরা ঠিকাদার থেকে মাটি ক্রয় করি, তাই যাচাই-বাচাই করার সুযোগ থাকে না। তা ছাড়া সব ভাটায় টপ সয়েল পোড়ানো হয় না।’
এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সূত্রে জানা যায়, জমির মালিক নিজ থেকে টপ সয়েল বিক্রি করে দিচ্ছেন, সেখানে আমাদের কিছু করার নেই। টপ সয়েল আশঙ্কাজনকভাবে কাটা হচ্ছে। কমছে জমির উর্বরতা শক্তি। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া প্রয়োজন। জরুরি পদক্ষেপ নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।
পুঠিয়ার কৃষি সম্প্র্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, বছরের পর বছর চাষাবাদ করার পর ফসলের অবশিষ্ট অংশ পচে এবং সার প্রয়োগের কারণে জমির উপরিভাগে উর্বরা শক্তি জমে থাকে, কিন্তু উপরিভাগের মাটি কেটে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ায় জমিতে বিদ্যমান উর্বর শক্তি হারিয়ে যাচ্ছে, যা ফিরে পেতে অনেক সময় লাগে। এরপর নিচের অংশে চাষাবাদে প্রচুর পরিমাণে সার প্রয়োগ করেও উর্বর করে তুলতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়।
মাটির উপরিভাগের ৬-৭ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরা শক্তি থাকে, কিন্তু দেড়-দুই ফুট গভীরতা পর্যন্ত ফসলের জমি থেকে মাটি নেয়া হলে জমির উর্বরা শক্তি থাকে না। তাই চাষাবাদে আশানুরূপ ফলন হয় না। ফসল বিবর্ণ হয়ে যায়। এ ক্ষতি কয়েক বছরে পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই।
পুঠিয়ার এক ইটভাটার মালিক বলেন, আমরা ঠিকাদার থেকে মাটি ক্রয় করি, তাই যাচাই-বাচাই করার সুযোগ থাকে না। তা ছাড়া সব ভাটায় টপ সয়েল পোড়ানো হয় না।’
এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের এক সূত্রে জানা যায়, জমির মালিক নিজ থেকে টপ সয়েল বিক্রি করে দিচ্ছেন, সেখানে আমাদের কিছু করার নেই। টপ সয়েল আশঙ্কাজনকভাবে কাটা হচ্ছে। কমছে জমির উর্বরতা শক্তি। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া প্রয়োজন। জরুরি পদক্ষেপ নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।
রাজশাহী থেকে সংবাদদাতাঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন । এ সময় ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসের বাইরে এবং ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেয়। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় সংগঠনের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পাঁচজন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে ছয় সদস্য লাঞ্ছিত হন। প্রথমে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেও পরে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
জানা যায়, গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস পুড়িয়ে দেয়ার মামলায় শিবিরকর্মীদের আটক করার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল। সোমবার ছাত্রশিবির কর্মীরা ক্যাম্পাসে এসে শোডাউন করলে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শিবির কর্মীরা আবারো কেন্দ্রীয় পাঠাগারের দক্ষিণ চত্বরে জড়ো হলে এর কয়েকশ গজ পশ্চিমে শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষের রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা চলে এই সংঘর্ষ।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে ছয় সদস্য লাঞ্ছিত হন। প্রথমে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেও পরে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
জানা যায়, গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস পুড়িয়ে দেয়ার মামলায় শিবিরকর্মীদের আটক করার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল। সোমবার ছাত্রশিবির কর্মীরা ক্যাম্পাসে এসে শোডাউন করলে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে শিবির কর্মীরা আবারো কেন্দ্রীয় পাঠাগারের দক্ষিণ চত্বরে জড়ো হলে এর কয়েকশ গজ পশ্চিমে শহীদুল্লাহ কলাভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষের রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা চলে এই সংঘর্ষ।
| সেলিম ভান্ডারী :: রাজশাহীর বাঘা উপজেলাকে মাদক মুক্ত করে সূধী সমাজে পরিণত করার নিমিত্বে মিডিয়া সহ সর্ব মহলকে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আলী আহম্মেদ হাশমী। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে মরণনেশা ফেন্সিডিল, হেরোইন, গাজা ও মদ পানে আসক্তের সংখ্যা অন্যান্য মাদক আসক্তি জেলা উপজেলার চেয়ে কোন অংশে কম নেই। দিন গেলে বেড়েই চলেছে মাদক ব্যাবসী ও মাদক আসক্তির সংখ্যা। বর্তমানে এ উপজেলায় মাদকাসক্তের সংখ্যা হাজার হাজার। এর মধ্যে নিয়োমিত হিরোইন সেবনকরী ব্যাক্তির সংখ্যাও অনেক । ওসি আলী আহম্মেদ হাশমী বাঘা থানায় যোগদান করেছেন মাত্র ছয় মাস পূর্বে। যোগদান করেই দেখতে পান বাঘা উপজেলায় মাদকের নানাবিধ চিত্র। বাঘা একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। এই এলাকায় এক শ্রেণীর লোক আছে যারা চোরাচালান বানিজ্যের সাথে বহুদিন ধরে সম্পৃক্ত। আর কিছু মানুষ আছে যারা নেশা করে অভ্যাস্ত। এই দুই শ্রেনীর লোকদের সাথে কিছু উচ্চ মহলও জড়িত আছে বলে জানান। এদের কিছুতেই ভাল পথে ফেরানো সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাই তিনি এই থানাতে যোগদান করার পর মাদকের সাথে জড়িত লোকদের চিহ্নিত করে বিভিন্ন সময়ে আইনি ব্যাবস্থা নিতে শুরু করেছেন। তিনি এই থানাতে যোগদানের পর এমন কোন মাস নেই যে, দুই-চার জনকে গ্রেফতার করেননি। ওসি আলী আহম্মেদ হাশমি এই থানায় আসার পর বাঘা উপজেলা থেকে মাদকসেবী ও মদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সংখ্যা এবং উদ্ধারকৃত ফ্রেন্সিডিল, মদ, গাজা ও তরল ফ্রেন্সিডিলের পরিমান সম্পর্কে জানান, ২০১১ইং সালের ডিসেম্বর মাসে ৯ দিনের ব্যবধানে ২২৯ বোতল ফেন্সিডিল, ১৪০ লিটার মদ, ২০ কেজি গাজাসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১২ ইং সালের জানয়ারী মাসে ৬০১ বোতল ফেন্সিডিল, সাড়ে ৬১ লিটার মদ ও ১০ কেজি গাজাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ফেব্র“য়ারী মাসে ৩৩ বোতল ফেন্সিডিল, ১ লিটার মদ ও ১ কেজি গাজাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মার্চ মাসে ২৭৩ বোতল ফেন্সিডিল, ৯’শ গ্রাম গাজা ও ১১ লিটার মদসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এপ্রিল মাসে ১৫৭ বোতল ফেন্সিডিল, ৮’শ গ্রাম গাজা ও ১৯২ লিটার মদসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আসার পর ২৫ টি ফেন্সিডিল মামলায় ৩৬ জনকে গ্রেফতার সহ ১২৯৩ বোতল ফেন্সিডিল ও সাড়ে ৩ লিটার তরল ফেন্সিডিল উদ্ধার হয়েছে। যার সর্বমোট মূল্য ৬ লক্ষ ৬২ হাজার ৫’শত টাকা। ৮ টি গাজার মামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার সহ ৩৩ কেজি ১৪০ গ্রাম গাজা উদ্ধার হয়েছে। যার সর্বমোট মূল্য ৯৬ হাজার টাকা। ৭ টি চোলাই মদের মামলায় ৭ জনকে গ্রেফতার সহ ৪০২ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য ৮০ হাজার ৪’শত টাকা। এদের গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমান আদালতে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এর পরেও তারা জেল/হাজত থেকে ফিরে সবার চোখে ফাঁকি দিয়ে রাতের আধারে ভারতীয় মরণ নেশা ফেন্সিডিল ও হেরোইন আমদানি করে যাচ্ছে। তবে তাদের কেউ চিহ্নিত করে আইনি জরুরী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা চালাচ্ছেন বলে জানান। বর্তমানে প্রেক্ষাপটে এর প্রবনতা অনেকাংশেই কমেছে বলে তিনি দাবি করেন। মাদকাসক্তের অত্যাচারে অসংখ্য সুখী সংসার ভেঙ্গে দুঃখের কিনারে। আসক্ত সন্তানের দাবি মেটাতে না পেরে পিতা-মাতাকে নানাবিধ অশান্তির মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। একাধিকবার জেল-হাজতে পাঠিয়েও এদের সংশোধন করা যায়নি বলে জানা যায়। এছাড়াও নেশার টাকা জোগাড় করতে এমন দু’একজন ব্যাক্তি রয়েছে যারা টিউবয়েরের হ্যান্ডেল থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষের বাড়িতে যা পাচ্ছে তাই চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগও দুই-চারটা পাওয়া গেছে। যাদের অত্যাচারে অনেকের রাতের ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলার সীমান্ত এলাকা আলাইপুর, হরিরাম পুর, কলিগ্রাম, পাকুড়িয়া, চক ছাতারী, নারায়নপুর ও মিলিক বাঘা গ্রামে হেরোইন ও ফেন্সিডিল আসক্ত ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি। তথ্য প্রদানের শেষ পর্যায় ওসি আলী আহম্মেদ হাশমি বর্তমান সমাজের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের বলেন, মাদক একবারে নির্মূল করতে পুলিশের পাশা-পাশি বর্তামানে সমাজের ভূমিকা অনেক বেশি। কেননা পুলিশ প্রতিনিয়ত মাদকের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াধের সাজা প্রদান করছেন। কিন্তু তাতেও মাদক মুক্ত হচ্ছে না পরিবেশ। এর জন্য একান্ত প্রয়োজন সামাজিক সহযোগীতা। কারণ মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীরা পুলিশ প্রসাশনের আড়াল হলেও সমাজের আড়াল হয়ে থাকতে পারে না। তাই সকল সুধী সমাজকে পুলিশের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে এক সাথে কাজ করার জন্য আহব্বান করেণ। |


