চট্টগ্রাম বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চট্টগ্রাম বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

জীবন কৃষ্ণদেবনাথ, চট্টগ্রাম ব্যুরো :: চট্টগ্রামে আবারও সন্ত্রাসীদের প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অবশেষে জোরপূর্বক অপহরণের পর ৮দিন আটকিয়ে রেখে ধর্ষণের শিকার হয় এক কলেজ ছাত্রী অবশেষে অপহরণকারীদের কবল থেকে ৮দিনের মাথায় সুকৌশলে পালিয়ে রক্ষা পেল বান্দরবনের সেই কলেজ ছাত্রী । বখাটে, উশৃংখল, সন্ত্রাসী ও কুরুচী সম্পন্ন যুবক- জাহেদুল ইসলাম পিতাঃ নুরুল ইসলাম, প্রকাশ খোকন গ্রামঃ পুরানগড়, থানাঃ সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম। আমাকে কলেজে যাওয়া-আসার সময় প্রায়ই নানাভাবে উত্যক্ত করত। আমি ইজ্জতের ভয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করি। কলেজে যাওয়ার সময় অর্থাৎ ২৩/০৭/১১ ইং বাজালিয়া বাস ষ্টেশনে আমাকে উক্ত জাহেদ ও তার অন্যান্য কয়েকজন সঙ্গীমসহ জোর কওে একটি মাইক্রোতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। আমাকে একটি ঘরে আটকিয়ে রাখে। আমি নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ী না যাবার কারণে আমার বাবা খোজা খুজির পর ২৫/০৭/১১ইং সাতকানিয়া থানায় ডায়েরী করেন। ডায়েরী নং ৯৭০/২০১১। এই সময়ের মধ্যে যে ঘরে আমাকে আটকিয়ে রাখা হয়, সেই ঘরে উক্ত মদদী জাহেদ জোরপূর্বক আমাকে শ্লীলতাহানী করে। এরপর উক্ত ঘরে তার পিতাঃ নুরুল ইসলাম প্রকাশ খোকন ও তার নিকট আতœীয় (১) গিয়স উদ্দিন, পিতাঃ মোঃ রফিক সাং বালাঘাটা, থানা ও জেলা-বান্দরবান এবং ফারজানা আক্তার রিমা পিতাঃ জাবেদ চৌধুরী সাং উজানীপাড়া থানা ও জেলা-বান্দরবান বলে যে জাহেদের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে সখের জীবন যাপন করতে পারবি। অন্যথায় আমার ও পরিবারের কারো রেহাই হবে না। সেই ঘরে জোরপূর্বক একটি কাবিন নামা ফরমে আমার স্বাক্ষর নেন। আমি অসহায়ের মতো উক্ত ঘরে তাদের মারধর ও শারিরিক নির্যাতন সহ্য করে আতœহত্যার চেষ্টা করেও পারিনি। এরা সকলে আমাকে জোরপূর্বক উক্ত লম্পট জাহেদেও সহিত রাত কাটাতে বাধ্য করে। ২৩/০৭/১১ থেকে ০৫/০৮/১১ইং পর্যন্ত তারা আমাকে উক্তঘরে আটকিয়ে রেখে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানী করেছে এবং মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বও ভাবে নির্যাতন করেছে। ০৫/০৮/১১ ইং তারিখে তখন রজমান মাস, ইফতার ও নামাজের জন্য উক্ত ঘরের লোকজন ব্যস্ত ছিল। এই সুযোগে আমি পিছনের দিক দিয়ে উক্ত ঘর থেকে পালাতে সক্ষম হই। বিস্তারিত ঘটনার বর্ণনা মামলায় বলেছি। তখন বুঝতে পারি যে,আমাকে তাদের আতœীয় আবুল খায়েরের বাড়ীতে আটকিয়ে রেখেছিল। আমি প্রাণ ভয়ে আতœগোপনে থেকে আমার বাবা-মা, আতœীয় স্বজনের সাথে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করে সাতকানিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে আমি বাদী হয়ে নারী নির্যাতন মামলা করি। মামলা নং- ২২, ২২(৮) ১১ তারিখঃ ২৫/৮/২০১১ ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৭/৯(১)৩০। থানা কর্তৃপক্ষ মামলাটি তদন্ত করে আসাশীদের বিরুদ্ধে চার্জসীট প্রদান করেন। মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১আদালতে ৫৭৫/২০১১, বিচারাধীন। সেই থেকে উক্ত আসামীরা আমার পরিবার ও আতœীয়দের প্রাণনাশের হুমকি সহ মামলায় জড়ানোর ভয় দেখাতে থাকে। এমন কি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম আদালতে আসিলে তারা আমাকে সেখান থেকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছিল। যার জন্য কতোয়ালী থানায় ডায়েরী করি যাহার তাবিখ ২২/০১/২০১২ইং এছাড়া ও আমার পিতাঃ মোহাম্মদ আলী সাতকানিয়া থানায় অপর একটি ডয়েরী করেছিল আমাদের জীবনের নিরাপওার জন্য সাতকানিয়া থানার ডায়েরী নং ১২৭২/২০১২ তারিখঃ ৩১/০৩/২০১২ । উক্ত সন্ত্রাসী চক্র এই ঘটনার পরে সাতকানিয়া থানায় একটি                 লুটপাটসহ দাঙ্গামার অভিযোগ এন একটি মামলা করেছিল। সাতকানিয়া থানার মামলা নং ২০ তারিখ ২৪/০৮/২০১১। উক্ত মামলাটি সাতকানিয়া পুলিশ তদন্ত কওে ঘটনা মিথ্যা ও সাজানো প্রমাণিত হওয়ায় নুরুল ইসলাম খোকন সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা করার জন্য সুপারিশসহ ফাইন্যাল রিপোর্ট প্রদান করেছিলেন। উল্লেখিত ঘটনা ও আসামীদের কার্যকলাপ সম্পর্কে ইতিমধ্যে আমি এবং আমার পিতা  স্বরাষ্ট্র প্রতি মন্ত্রী মহোদয়, আইজিপি মহোদয়, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম ও সাতকানিয়া সার্কেল মহোদয় এর নিকট দরখাস্ত প্রদান । করার পর ও সুবীচার পাইনী। উক্ত লম্পট জাহেদুল ইসলাম পিতা নুরুল ইসলাম খোকনের চার স্ত্রীর ১ম স্ত্রীর সন্তান। সে পাহাড়ী মদ ও কাঠের ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত, উৎশৃঙ্খল সন্ত্রাসী যুবক। ঘটনার পরপরই উক্ত নারলোভী সন্ত্রাসী চক্রটি আমার বাবা-মা-ভাই-মামাকে আসামী কওে মিথ্যা সাজানো, বানোয়ট কাহিনী বানিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ পুবক ধর্ষণ, মামলা সাজিয়ে মাননীয়  আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভ্রমে ফেলে মামলা দায়ের করেন-মামলা নং ১১৯/২০১২ তারিখঃ ৬/২/১২। উক্ত মামলাটি মাননীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট জনাব আক্তার হোসেন মহোদয় তদন্তপূর্বক আসামীদেও বিরুদ্ধে সত্যতা পাওয়া যায় নাই মর্মে রিপোট দেওয়ার পরও অদৃশ্যকারণে রহস্যজনকভাবে মামলাটি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-চট্টগ্রাম-১ এর আদালতে গ্রহণপূর্বক আমার বাবা-মা-ভাই এর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারী করা হয়। বর্তমানে তাদেরকে মাননীয় হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া এবং এ,কে,এম শাহেদুল হক মহোদয়ের বেঞ্চ থেকে আগাম জামিন নেওয়া হয়।এতে আমার পৈএিক সম্পওি বন্ধক রেখে মোটা অংকের টাকা জোগার করতে হয়। উল্লেখ্য উক্ত মামলার বাদী আমেনা সুলতানা উক্ত নুরুল ইসলাম খোকনের রক্ষিত হিসাব পরিচিত। আবার আমার মামলার আসামী  গিয়াস উদ্দিন তার কথিত ভাড়াটিয়া স্ত্রী উর্মি আক্তারকে বাদী কওে আরো একটি মামলা একই আদালতে একই উকিলের মাধ্যেওে একই ধারায় মামলা করেন- মামলা নং ২৬৯/২০১২,তাং ১৮/৩/১২। মামলাটি বর্তমানে সিনিয়র জুিডশিয়ল ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট তদন্তাধীন আছে। মিথ্যা মামলার কারণে আমার একমাএ ভাই মোঃ বাবুল হোসেন এইচ.এস.সি পরীক্ষায় ভালোভাবে অংশ নিতে পারিতেছে না। আমার বাবা-মা ঘরে থাকিতে না পারায় ছোট স্কুল পড়–য়া দুই বোনের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বেঁচে থাকার মতো কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। যে কোন সময় যে কোন অঘটন ঘটতে পারে। তখন হয়তো একটি নিমর্ম কাহিনী সৃষ্টি করা ছাড়া আমাদের আর কোন পথ থাকবে না। হয়তো আমরা লজ্জা, ঘৃনায়, আশ্রয়হীনতার কারণে স্ব-পরিবারে আতœহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না। এই সব সন্ত্রাসীরা বড়ই নির্মম, নিষ্টুর এবং হিংস্র। এরা সব করতে পারে। হয়তো আমাদেও গোটা পরিবারকে পুড়িয়ে মারতে পারে অথবা ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দিতে পারে। আমাকে নির্মম লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। তারা হিংস্র ও ভয়ানক। এরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দলবদ্ধ গোষ্ঠি। বর্তমানে অপরাধীরা যেন নারীলোভী লম্পট জাহেদুল ইসলাম ও তার পিতা নুরুল ইসলাম খোকন, আতœীয় গিয়াসউদ্দিন, টাকার বিনিময়ে মামলার বাদিনী আমেনা সুলতানা, উম্মী আক্তার এবং ফারজানা আক্তার রিমা সহ সকল চক্রেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি এবং এদের আশ্রয়দাতাদের শাস্তি চাই। উক্ত চক্রকে অভিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া না হলে এরা যে কোন সময় আমার পরিবারের উপর জঘন্যতম ঘটনা ঘটাতে পারে। সন্ত্রাসী চক্রের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত হলে আমার এবং আমার পরিবারের জীবন-যাপন নিরাপদ হবে বলে বিশ্বাস করি। আমি আবার পড়ালেখা গড়বো এই মহৎ প্রত্যাশা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে (ছদ্দনাম পরিনম বেগম), পিতাঃ  মোঃ মোহাম্মদ আলী, সাং- পুরানগড় ইউনিয়ন, থানা- সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম এবং উপস্থিত হয়ে গরিব কৃষক গরীব কৃষক পিতাঃ মোহাম্মদ আলী, মাতাঃ ফরিদা বেগম, ভাই- মোঃ বাবুল হোসেন দুই বোন যথাক্রমে ১/ তাসমিন আক্তার ২/ তাহমিনা আক্তার বৃষ্টিসহ আমরা আত্মীয় স্বজনবৃন্দ উপস্থিত হয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্যাতিত কলেজ ছাত্রী (ছদ্দনাম পরিনম বেগম)।

undefinedরাজ নিউজ ২৪ ডটকম :: কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি : সোহরাব হোসেন চৌধুরী,আজ ২৯ এপ্রিল। আজকের এই দিনে ৯১ সালে প্রলয়ংকারী  ঘূর্ণিঝড় ও সামুদ্রিক জলোচ্ছাসে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও ঘরহারা হয়। সে সময়ে জেলার প্রায় বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়।    তখন থেকেই সে বাঁধ নিমার্ণ করে জনগনের যান মাল রক্ষার প্রচেষ্ট এগিয়ে যায়। কিন্তু কক্সবাজারে কিছু চিহৃিত প্রভাবশালী ব্যক্তি এক হয়ে নদীতে স্পার ও বাঁধ নিমার্ণ করে কক্সবাজার শহরের প্রধান বাকঁখালী নদী দখলে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বাঁকখালী নদীতে স্পার ও বালির বস্তা দিয়ে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে প্রভাবশালীরা। এতে সরকারী সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত প্রায় ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের ফিশপার্ক নামক একটি গলদা চিংড়ি হ্যাচারীসহ গোদারপাড়া এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন সংশি­ষ্টরা। ইতোমধ্যে কক্সবাজার শহরের গোদারপাড়া, এসএমপাড়াসহ চৌধুরীপাড়ার বিস্তীর্ণ ভূমি ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত বর্ষায় গোদারপাড়া, এসএমপাড়া ও চৌধুরীপাড়া অবস্থিত মসজিদ, মাদ্রাসা,স্কুলসহ শতশত ঘর-বাড়ি নদীর পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। আসছে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের তোড়ে পাড় ভেঙ্গে আরো জমিজমা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশংকায় আতংকে রয়েছেন সংশি­ষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কক্সবাজার শহর সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে স্পার নির্মাণ ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। এতে নদীর একপাড়ে চরের সৃষ্টি হলেও অপর পাড়ের বিশাল জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বাঁকখালী নদীর ওপারে খুরুস্কুল ও পিএমখালীতে একের পর এক স্পার নির্মাণ ও বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কারণে মাত্র ৫ বছরেই শহরের গোদারপাড়া, এসএমপাড়াসহ চৌধুরীপাড়ার অন্তত ৩০০ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বসতবাড়ী হারা হয়ে গেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য কমপক্ষে ২ হাজার কোটি টাকা হবে বলে জানান নদীপাড়ের বাসিন্দা মুজিবুর রহমার।
জয়নাল আশংকা প্রকাশ করেন বলেন, নদীর ওপারে স্পার ও বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত থাকায় আসছে বর্ষা মৌসুমে আরো বিলীন হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই এবং নদীর এপারের আরো বিস্তীর্ণ ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বর্তমানে ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত ফিশপার্ক নামক একটি ১৫০ কোটি মূল্যের গলদা চিংড়ি ও তেলাপিয়া হ্যাচারীসহ কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
বাসিন্দা আবুল মিয়া জানান, ইতোমধ্যে নদীপাড়ের বিভিন্নস্থানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতংকাবস্থা বিরাজ করছে। এই ঘটনার জের ধরে যে কোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।
নদীপাড়ের প্রবীণ বাসিন্দা আলী আকবর জানান, একসময় আলীর জাঁহাল থেকে গোদারপাড়া হয়ে ছনখোলা ঘাট পর্যন্ত ২৫ ফুট চওড়া একটি সড়ক ছিল। যা এখন নদীগর্ভে।
বাসিন্দ কাদের জানান, নদীতীরে অব্যাহত ভাঙনের কারণে নদী সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া, পেঁতা সওদাগর পাড়া, চান্দেরপাড়া, এসএমপাড়া, গোদারপাড়া ও মাঝিরঘাট পর্যন্ত এলাকার প্রায় ২ হাজার একর চাষযোগ্য জমি লবণাক্ত পানিতে ডুবে থাকে। এতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের গোদারপাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান, মাত্র এক যুগ আগেও গোদারপাড়ার প্রায় ৫ হাজার পরিবার ছিল। এখানে ছিল স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মক্তব ও কবরস্থান। কিন্তু এখন কিছুই নেই। বর্তমানে মাত্র ৩০-৪০টি বাড়ী নামমাত্র টিকে আছে পাড়াটি। আসছে বর্ষা মৌসুমে বাকী বসতবাড়ীসমূহও নদীগর্ভে বিলীনের আশংকায় রয়েছেন তারা।
তারা আরো জানান, মাত্র গত ৩ বছরেই এই এলাকার মৌলভী ফজর আহমদ, মাষ্টার মোহাম্মদ হাসান, মাহমুদুন্নবী, নুরুল কবীরসহ কয়েকটি বনেদী পরিবার ভিটেবাড়ীসহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
তারা আরো বলেন, নদীর ওপাড়ে স্পার ও বাঁধ দেওয়া বন্ধ করে দিলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ এবং এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ কর্ম ও বাসস্থান ফিরে পাবে।
মোহাম্মদ আমিন জানান, বাঁকখালী নদীর এপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোন  পোল্ডার নেই। এই এলাকাকে পাউবো পোল্ডারের আওতাভূক্ত করে শহর রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। তিনি আরো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) শহরের পেশকার পাড়া পর্যমআওতাভূক্ত ত রয়েছে। কিন্তু শুধু মাত্র গোদারপাড়া, এসএমপাড়া এলাকাটিই পাউবো পোল্ডারের আওতাভূক্ত নয়। যতটুকু জানা যায় পাউবো পোল্ডারের আওতাভূক্ত না করার জন্য উক্ত চিহৃিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যোগসাযোশ গঠে তুলেছে পাউবোর কর্মকর্তারা।
তিনি জানান, নদীর ওপারে কয়েকজন লোভী প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে চরের জমি হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই নদী তীরে অসংখ্য বাঁধ ও স্পার নির্মাণ করছে। গত কিছুদিন আগেও ২৫ টি স্পার নির্মাণ করা হয়েছে।
বাসিন্দা সুলতান জানান, শহরের এসএমপাড়া থেকে মাঝিরঘাট পর্যন্ত এলাকার ওপারে ইতোমধ্যে ৩০টির মত স্পার ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে চিহৃিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জানান, নদীর তীর ভাঙনের কারণে তাদের চিংড়ি ঘের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে ওপারে চর জেগেছে। তাই আমাদের সম্পদ হেফাজত করতেই নদীপাড়ে স্পার ও বাঁধ নির্মাণে বাধ্য হয়েছি এবং তারাই স্পার ও বাঁধ দেওয়া কারণে গোদারপাড়া বাসীরা তাদের সম্পদ রক্ষা করতে পাচ্ছে বলে দাবী করেন। অপরদিকে সরেজমিনে দেখা যায় যে, চিহৃিত প্রভাবশালী ব্যক্তির দাবীর সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই।
প্রকৃত বিষয় হচ্ছে, শাক দিয়ে মাছ ডাকার অপ্রচেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছে উক্ত প্রভাবশালীরা।
বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায়, চিহৃিত প্রভাবশালীদের স্পার ও বাঁধা দেওয়ার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে উক্ত এলাকার হাজার হাজার বসত বাড়ি, ফসলি জমি এবং পরিবেশ বিনষ্ট করেছে। তা থেকে বাঁচার জন্য উক্ত প্রভাবশালীরা মুখ ভরা মিথ্যা কথা বলছে। তাছাড়া বর্তমানে খুরুশস্কুল এলাকায় যে চরটি জেগে উঠেছে তাও গোদারপাড়া, এসএমপাড়ার বিলীন হওয়া এলাকার। উক্ত এলাকায় যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভবনা রয়েছে। এলাকাবাসী প্রশাসনকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যস্ত নিয়ে চিহৃিত প্রভাবশালীদের কালো থাবা থেকে পরিবেশ ও শত বছরে ঐতিহ্যপূর্ণ এলাকাটি রক্ষাকল্পে অনতি বিলম্বে অবৈধ স্পার সমূহ অপসারণ করার জোর দাবী জানান। অন্যথায় আগামী বর্ষায় সেই ৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের মত ভয়াবহ জলোচ্ছাস অথবা বর্ষার প­াবনে উক্ত এলাকার বাকি অংশও কোন চিহৃ খুজেঁ পাওয়া যাবে না বলে ধারণা অভিজ্ঞ মহলের। উলে­খ্য যে, বাঁকখালী নদী ভাঙ্গন ও অবৈধ স্পার এবং বাঁধ দেওয়ার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সংবাদ ও পত্রিকায় প্রতিবেদন ছাপানোর পরও প্রশাসনের কোন নজর দেয়নি উক্ত নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা।

খবর সন্ধান করুন